মাদারবোর্ড কি বা মাদারবোর্ড কাকে বলে

admin 159 Time View
Update : Saturday, July 22, 2023

আমরা সবাই জানি, যে কম্পিউটারের মতো যেকোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র বিদ্যুৎ শক্তির সাহায্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চলে।

আর, আমরা এই কথাটার সাথেও কম-বেশি সবাই পরিচিত, যে একটা কম্পিউটারের মাদারবোর্ড খারাপ হওয়া মানে, সাময়িকভাবে সেই কম্পিউটারটা নষ্ট হয়ে যাওয়া।

আসলে, বৈদ্যুতিক শক্তি-নির্ভর এই যন্ত্রগুলোতে যে বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহকারী ব্যবস্থা থাকে, সেই ব্যবস্থা প্রথমে পরবর্তী তড়িৎ প্রবাহকে (অল্টারনেটিভ কারেন্ট) কম ভোল্টেজের সমতড়িৎ প্রবাহে (ডিরেক্ট কারেন্ট) পরিণত করে কম্পিউটারের মাদারবোর্ডে পাঠায়।

আর, মাদারবোর্ড সেই বৈদ্যুতিক শক্তিকে গ্রহণ করে কম্পিউটারের সমস্ত অংশগুলোকে একসাথে সংযুক্ত করে একটা একক প্ল্যাটফর্ম তৈরী করে।

যেই প্ল্যাটফর্মটি কম্পিউটারের সিপিইউ, মেমরি, হার্ড ড্রাইভ, ভিডিও কার্ড, অপটিক্যাল ড্রাইভ, সাউন্ড কার্ড এবং অন্যান্য পোর্ট এবং এক্সপেনশন কার্ডকে সরাসরি বা তারের মাধ্যমে যুক্ত করে রাখে।

আজকে আমরা এই আর্টিকেলে মূলত একটি কম্পিউটার মাদারবোর্ড কি কি কাজ করে থাকে আর এটির মূল অংশগুলো কি কি ও তার যথাযথ বর্ণনা নিয়ে আলোচনা করবো।

মাদারবোর্ড কি বা কাকে বলে – (What is motherboard in Bangla).

সাধারণ অর্থে, মাদারবোর্ড হল কম্পিউটারের সিপিইউ যন্ত্রের মধ্যে থাকা একটা সরু ও চ্যাপ্টা বোর্ডের মতো অংশ।

এই অংশটিকে কম্পিউটারের শিরদাঁড়া বলে চিহ্নিত করা হয়, কারণ এটি ছাড়া যেকোনো কম্পিউটার যন্ত্র একেবারেই প্রায় অচল।

কম্পিউটার বিজ্ঞানের ভাষায় এই মাদারবোর্ড লজিক বোর্ড বা মেইন বা প্রধান বোর্ড নামেও পরিচিত।

যেকোনো কম্পিউটার সিস্টেমে একটা মাদারবোর্ডের প্রধান কাজ থাকে, কম্পিউটার সিস্টেমের সমস্ত উপাদানগুলোর মধ্যে বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ করে উপাদানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা ও তাদের মধ্যে একটা সংযোগ স্থাপন করা।

আসলে, এই মাদারবোর্ডের সাহায্যেই কম্পিউটারের ভিতরে ও বাইরে থাকা যন্ত্রগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পরিচালনা করা হয়ে থাকে।

সংজ্ঞা অনুসারে, একটি মাদারবোর্ড হল একটি কম্পিউটার যন্ত্রের প্রধান প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (PCB)।

যা কম্পিউটরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, যেমন হার্ড ড্রাইভ, সিপিইউ ও জিপিউ-এর মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে বলেই, আমরা কম্পিউটারে মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করে উঠতে পারছি।

এই মাদারবোর্ড অংশটি সিপিইউ-এর কম্পিউটার কেসের যেকোনো একটা ধারে লাগানো থাকে।

আর, এই যন্ত্রাংশের মধ্যে নানাধরণের জরুরি কন্ট্রোলার ও চিপস থাকে, যা একত্রে চিপসেট নামে পরিচিত।

আমরা জানি, যে কম্পিউটার হল মূলত ইনপুট, প্রসেসিং ও আউটপুট ডিভাইসের সমষ্টি।

আর, তথ্য প্রসেস বা প্রক্রিয়াকরণই হল যেকোনো কম্পিউটরের মূল কাজ।

সেক্ষেত্রে, এই তথ্য প্রসেসিং-এর জন্যে সমস্ত কম্পিউটার যন্ত্রে থাকে অতি প্রয়োজনীয় প্রসেসর যন্ত্রাংশটি, যা এই মাদারবোর্ডের মধ্যেই অবস্থিত থাকে।

মাদারবোর্ডের ইতিহাস আলচনা:

১৯৮০-এর দশকে সর্বপ্রথম আইবিএম (IBM) কোম্পানি মাদারবোর্ড ব্যবহার করা শুরু করে।

তবে, তখন মাদারবোর্ডকে প্ল্যানার বলে বলা হতো।

এই যন্ত্রাংশের সাহায্যেই প্রধাণত কম্পিউটারের বিভিন্ন উপাদান গুলোর মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা হতো।

এমনকি, এটি সমস্ত পেরিফেরালক ডিভাইসকেও সংযুক্ত করতো।

আর, এই কারণেই পরবর্তীতে একে মাদারবোর্ড বা কম্পিউটারের প্রধান পরিচালনাকারী যন্ত্রাংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আর, এই মাদারবোর্ডের অন্যান্য এক্সটেনশন বা বর্ধিত যন্ত্রাংশগুলোকে সিস্টারবোর্ডও বলা হয়ে থাকে।

কম্পিউটার মাদারবোর্ড পরিচিতি:

একটি মাদারবোর্ড আসলে হল বিভিন্ন জটিল কম্পিউটার যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে তৈরী একটা গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম।

কিন্তু, আসলে এই সরু, চ্যাপ্টা মাদারবোর্ড তৈরী হয়ে থাকে সিলিকন ও প্লাস্টিকের তৈরী উপাদান থেকে।

আর, মাদারবোর্ডের প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ডের মধ্যে থাকে একাধিক ফাইবারগ্লাসের স্তর ও তামার সংযোগকারী চিহ্ন এবং পাওয়ার ও সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন করার জন্যে থাকে তামার প্লেন।

যাতে, অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক সংকেত মাদারবোর্ডের সূক্ষ সার্কিটের কোনো ক্ষতি না করতে পারে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category